এই সমস্ত ফেসবুক ব্যবহার ডেকে আনতে পারে বিপদ |

বাংলাদেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাতে স্মার্টফোন আছে কিন্তু ফেসবুকের কথা জানেনা এরকম মানুষ আপনি একজনও খুঁজে পাবেন না।

তবে আপনি কি জানেন ফেসবুক ব্যবহার এর অনেক খারাপ দিক রয়েছে যেগুলো আপনার বিপদ ডেকে আনতে পারে?

ফেসবুক ব্যবহার এর খারাপ এক্সপেরিয়েন্স এ কারণে হতে পারে আপনার জেল কিংবা কয়েক মেয়াদের সাজা? কি জানেন তো আপনি?

আজকের এই পোস্টটিতে আমি আলোচনা করবো ফেসবুক ব্যবহার এর কিছু ক্ষতিকারক দিক যা আপনার বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গুজব ছড়ানো

গুজব নামক শব্দটি বর্তমানে বাংলাদেশের একটি মারাত্মক শব্দ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যা আপনার মনোভাবকে পরিবর্তন করার জন্য যথেষ্ট।

আপনি ফেসবুকের টাইমলাইন খুললেই হয়তো যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে বহু সংখ্যক খারাপ এবং উদ্ভট মনোভাবের ব্যক্তিদের বিভিন্ন মতামত দেখতে পায়।

অনেকেই এটাকে নিজের মনগড়া উক্তি দ্বারা সম্বোধন করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে। যা সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।

তবে এটি যখন অতিমাত্রায় লোকসমাগমের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে তখন সেটাকে  গুজব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের আইনের একটি সেক্টর এসমস্ত নিধনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর যারা এদের মধ্যে জড়িত আছে কিংবা তাদেরকে সন্দেহ করা হয় তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এবং আপনিও যদি এই সমস্ত গুজব ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত হন তাহলে আপনিও ওই সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল।

তাই এসব গুজব সংক্রান্ত জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফেসবুকে এরকম কিছু কখনোই শেয়ার করবেননা যে সম্পর্কে আপনি বিন্দুমাত্র ধারণা রাখেন না।

আর শেয়ার করার আগে অবশ্যই আপনাকে এটি সম্পর্কে খতিয়ে দেখতে হবে এবং তারপরে এটিকে শেয়ার করার উপযুক্ত মনে করলে তা করতে হবে।

হ্যাকিং হুমকি

ফেসবুকে কাউকে একদম প্রকাশ্যে তার আইডি হ্যাক করার মত হুমকি দেয়ার দুঃসাধ্য কখনো করবেন না। কারণ এগুলো আপনার ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ: আপনার বিন্দুমাত্র ফেসবুক হ্যাকিং সংক্রান্ত ধারণা না থাকা সত্ত্বেও আপনি কাউকে তার ফেসবুক আইডি হেকিং করার হুমকি দিয়ে দিলেন।

এবং পরবর্তীতে দেখা গেল যে ওই ব্যক্তি ফেসবুক আইডি হ্যাকিং হয়ে গেছে কিন্তু আপনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অর্থাৎ আপনি তার ফেসবুক আইডি হ্যাকিং এর ভূমিকা পালন করেননি।

তখন ওই ব্যক্তি যদি আপনাকে অভিযুক্ত করে কোন থানায় এন্ট্রি করে তাহলে আপনার কোন দশা হতে পারে সেটা কি কখনও ভেবে দেখেছেন?

কারণ আপনি যতই তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেন না কেন যে আপনি তার ফেসবুক আইডি হ্যাকিং করেন নি, তারা কিন্তু তা কখনোই বিশ্বাস করবে না।

জার্মান এটা দাঁড়ায় যে আপনি কোন ধরনের হ্যাকিং এর সাথে যুক্ত না হওয়ার পরেও ওই ব্যক্তিকে তার আইডি হ্যাকিং করার হুমকি দেয়ার ফলস্বরূপ বিনামূল্যে সাজা ভোগ করবেন।

তাই ভুলেও কখনো ফেসবুকে কাউকে তার একাউন্ট হুমকি দেয়ার মত বোকামির কাজ কখনো করবেন না।

নেশাদ্রব্য বিক্রি বা জড়িত থাকা

ফেসবুকে এরকম অনেক গ্রুপ কিংবা পেইজ রয়েছে যেগুলো থেকে আপনি চাইলে বিভিন্ন ধরনের নেশা দ্রব্য ক্রয় করতে পারেন।

তবে যে বা যারা এধরনের ফেসবুক গ্রুপ ডিলিট করেছে তাদের কি দশা হতে পারে এটা কি আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন?

অনেক সময়ই এটা দেখা যায় যে তাদের দুষ্কৃতী চক্র কে আইনের আওতায় আনা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়। আপনি কখনোই আইনের চেয়ে বড় নয়।

তাই ঐ সমস্ত গ্রুপে জয়েন করা কিংবা পেইজে লাইক দেয়া থেকে নিজে বিরত থাকুন এবং অন্যদেরকে বিরত রাখুন। এছাড়াও ঠিক একই রকমভাবে সমস্ত গ্রুপ পেজ খোলা থেকে বিরত থাকুন।

মোটকথা এটাই এই সমস্ত ফেসবুক ব্যবহার আপনার অস্তিত্বের উপর হুমকি স্বরূপ। যা আপনার ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

আর উপরের উল্লেখিত বিষয়গুলো অর্থাৎ উপরে উল্লেখিত উপায়ে আপনি যদি ফেসবুক ব্যবহার করেন তাহলে এগুলো আপনার চরম পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 4 =

Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap