ব্যাংক এশিয়া একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম, এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং |

ব্যাংক এশিয়া এর সাথে আপনি যদি আপনার কার্যক্রম সম্পাদন করতে চান; তাহলে ব্যাংক এশিয়া একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম এবং এই রিলেটেড বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইবেন।

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে ব্যাংক এশিয়ার একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নেন; তাহলে ব্যাংকের সাথে আপনি আপনার সমস্ত লেনদেনের কাজ সম্পাদন করতে পারবেন।

আর এই Bank Asia  অ্যাকাউন্ট তৈরি করার নিয়ম এবং ব্যাংক এশিয়া রিলেটেড আরো যে সমস্ত বিষয়াদি রয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়ার জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি একদম শেষ পর্যন্ত দেখুন।

ব্যাংক এশিয়া একাউন্টের ধরন কত প্রকার?

আপনি যদি Bank Asia  এর অধীন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন; তাহলে তাদের একাউন্টের ধরন মূলত দুই রকমের হয়ে থাকে।

এবং এই দুই রকমের একাউন্টকে মূলত দুইটি নামে বিভক্ত করা হয়েছে সেগুলো হলোঃ

  • ডিমান্ড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট।
  • টাইম ডিপোজিট একাউন্ট।

ডিমান্ড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টঃ মূলত কোন গ্রাহক যদি এই ব্যাংকের মাধ্যমে আনলিমিটেড লেনদেন এবং ইচ্ছামতো টাকা উত্তোলন করার সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে চায়, তাহলে ডিমান্ড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট তৈরি করবে।

ডিমান্ড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট তৈরি করার মাধ্যমে যে কোনো গ্রাহক ইচ্ছামত টাকা জমা রাখতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে ইচ্ছামত টাকাগুলো তার নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসতে পারবে।

এছাড়াও ডিমান্ড ডিপোজিট একাউন্ট এর মধ্যে যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট গুলো ধরা হয় এ সমস্ত অ্যাকাউন্ট গুলো হলঃ সেভিংস ডিপোজিট  একাউন্ট, কারেন্ট ডিপোজিট  একাউন্ট, শর্ট টার্ম ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য একাউন্ট।

টাইম ডিপোজিট একাউন্টঃ Bank Asia  সাথে আপনি যদি টাইম ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নেন, তাহলে এই একাউন্টে নিয়মকানুন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

টাইম ডিপোজিট একাউন্ট ব্যবহারকারীরা ইচ্ছামত টাকা উত্তোলন করতে পারবেনা। এ ছাড়াও যে কেউ চাইলে ইচ্ছামত টাকা জমা রাখতে পারবে না।

টাইম ডিপোজিট একাউন্ট এ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে যে সমস্ত নিয়মকানুন গুলো অনুসারে যে কোনো ব্যবহারকারী টাকা জমা রাখতে পারবে এবং টাকা উত্তোলন করতে পারবে।

এবং টাইম ডিপোজিট একাউন্ট এর অধীনে যে সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গুলো উল্লেখ্য সেগুলো হলোঃ সেভিংস ডিপোজিট একাউন্ট, কারেন্ট ডিপোজিট একাউন্ট এবং শর্ট টার্ম ডিপোজিট একাউন্ট।

ব্যাংক এশিয়া একাউন্ট কিভাবে খুলবেন?

Bank Asia  অধীন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পূর্বে আপনাকে প্রথমত কি রকমের ব্যাংক একাউন্ট তৈরী করতে চান, সেই বিষয়টি চিন্তাভাবনা করে নিতে হবে।

Bank Asia  অধীনে আপনি যদি ডিমান্ড ডিপোজিট একাউন্ট তৈরী করতে চান, তাহলে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন এবং টাইম ডিপোজিট একাউন্ট তৈরি করতে চাইলে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন।

সমস্ত বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করা হয়ে গেলে এবার আপনি যদি ব্যাংক এশিয়া এর অধীন একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে চান; তাহলে আপনার আশেপাশে থাকা একটি ব্রাঞ্চ কিংবা শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।

একবারে যদি ব্যাংক একাউন্ট তৈরী করতে চান তাহলে প্রথম দিনেই আপনার সাথে যে সমস্ত ডকুমেন্টস গুলো নিয়ে যাওয়া লাগবে সেগুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলোঃ

একাউন্ট ডকুমেন্টস বেসিক

  • প্রথমত একাউন্ট অপেনিং ফর্ম রয়েছে সেই ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। একাউন্ট অপেনিং ফর্ম আপনি চাইলে এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।
  • এবার আপনাকে একজন রেফার নির্বাচন করতে হবে এবং ওই ব্যক্তির দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি সংগ্রহ করতে হবে।
  • এবার ব্যাংক একাউন্টের জন্য নমিনি নির্বাচন করেছেন, সেই নমিনির 2 কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে হবে।
  • আপনার নমিনি এবং ডিস্ট্রিবিউটরের ডকুমেন্ট যখন আপনি কালেক্ট করে নিবেন, তখন ব্যাংক কর্তৃক যে ফ্রম রয়েছে সেই ফরমটি যথাযথভাবে ফিলাপ করে নিতে হবে।

এবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে আপনার যে সমস্ত ডকুমেন্টস লাগবে সেই সমস্ত ডকুমেন্টস গুলো তাদেরকে প্রোভাইড করতে হবে এবং অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে সহায়তা করতে হবে।

ব্যক্তিগত একাউন্ট তৈরীর ডকুমেন্টস

  • আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র এর ফটোকপি। না থাকলে জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি প্রযোজ্য।
  • আপনার ঠিকানা প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট ডকুমেন্টস। স্টুডেন্ট হয়ে থাকলে এডমিট কার্ড, অথবা বিল এর ফটোকপি ইত্যাদি।
  • আয়ের উৎস প্রমাণের  জন্য কোন একটি ডকুমেন্টস অর্থাৎ ভিজিটিং কার্ড কিংবা অন্যকিছু। তবে স্টুডেন্ট একাউন্ট হলে এগুলোর কোন দরকার নেই।
  • আপনার যদি e-tin সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে সেটি প্রোভাইড করতে পারেন। না থাকলে দরকার নেই।

উপরে উল্লেখিত ডকুমেন্ট সমন্বয়ে যখন আপনি ব্যাংক এশিয়া এর যেকোন এজেন্ট কিংবা শাখায় উপস্থিত হবেন, তখন আপনার ব্যাংক একাউন্ট তৈরীর কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।

ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং

ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং আপনি যদি করতে চান তাহলে এজেন্ট ব্যাংকিং করার জন্য প্রথমত যোগ্যতার অনুসারী হতে হবে; অর্থাৎ আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং করার জন্য প্রযোজ্য কিনা সেটা যাচাই করতে হবে।

Bank Asia  এজেন্ট ব্যাংকিং করার জন্য আপনার যে সমস্ত বিষয়াদির বা যোগ্যতার প্রয়োজন হবে সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য হলোঃ

  • আইটি ভিত্তিক সেবা পরিচালনা করতে সক্ষম হতে হবে; প্রযুক্তির জ্ঞান থাকতে হবে এবং ইন্টারনেট অ্যাক্টিভ থাকতে হবে।
  • যেকোনো একটি বড়সড় দোকানের মালিক হতে হবে। যেমন ফার্মেসি, গ্যাস পাম্প,দোকান ইত্যাদি।
  • এছাড়াও একমালিকানাদিন থাকতে হবে এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে ইত্যাদি।

মূলত উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো সাথে আপনি যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকেন, তাহলে আপনি ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং রয়েছে সেই এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং এ যে সমস্ত সেবা থাকবে

  • বিভিন্ন রকমের ঋণ প্রদান।
  • রেমিটেন্স এর অর্থ প্রধান।
  • বিভিন্ন রকমের চলতি হিসাব সমূহ খোলা।
  • ফান্ড ট্রান্সফার এবং নগদ, জমা ও উত্তোলন ইত্যাদি।

মূলত ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট হতে হলে আপনাকে আরো যে সমস্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে সেগুলো সম্পর্কে জানতে হলে নিম্নলিখিত আর্টিকেলটি পড়ে আসুন।

আরো জানুন

এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়াদি জানতে পারবেন এবং একজন এজেন্ট হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তাতে যোগ্যতাভিত্তিক সফল হতে পারবেন।

ব্যাংক এশিয়া মোবাইল ব্যাংকিং

বর্তমান সময়ে ব্যাংক এশিয়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে রেখেছে যাতে করে আপনি ঘরে বসেই আপনার ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

ব্যাংক এশিয়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আপনি চাইলে ঘরে বসেই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন রকমের বিষয়াদি সম্পন্ন করতে পারবেন।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সাথে আপনি যদি নিজেকে যুক্ত করতে চান তাহলে প্রথমে ব্যাংক এশিয়া এর যে অফিশিয়াল মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপস রয়েছে সেটি ডাউনলোড করে নিতে হবে।

Download App

উপরে উল্লেখিত অ্যাপসটি ডাউনলোড করার পরে আপনার নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট দিয়ে লগইন করে নিন; মূলত ইনফরমেশন গুলো সঠিক হলে 24 ঘন্টার মধ্যে আপনার একাউন্ট এক্টিভেট হয়ে যাবে।

এই অ্যাপসটির মাধ্যমে আপনি ব্যাংকের যে সমস্ত কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলোঃ

  • একাউন্ট ব্যালেন্স চেক এবং ট্রানজেকশন ডিটেইলস।
  • ট্রান্সফার মানি।
  • মোবাইল রিচার্জ।
  • স্ট্যান্ডিং ইনস্ট্রাকশন।
  • ব্রাঞ্চ লোকেশন সার্চ কিংবা এটিএম বুথ সার্চ সহ আরো অনেক।

আর আপনি যদি Bank Asia  মাধ্যমে আপনার সমস্ত কার্যক্রম সম্পাদন করতে চান, তাহলে প্রধানত যে সমস্ত স্টেপ গুলো সম্পর্কে জানতে হয় সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

আশা করি একটি নতুন ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম এবং ব্যাংক একাউন্ট সংক্রান্ত এজেন্ট ডিটেলস, মোবাইল ব্যাংকিং ডিটেল্স সম্পর্কে এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি ধারণা নিতে পেরেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 4 =

Scroll to Top