ফ্রী ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করবেন? স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিন

আমাদের মধ্যে যে বা যারা নতুন ব্লগিং শুরু করতে চান, তারা নিশ্চয়ই এ সম্পর্কে প্রথমেই জেনে নিতে চান যে কিভাবে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়?

কারণ, প্রথমত আমাদের মধ্যে অনেকেরই সেরকম কোনো আর্থিক অবস্থা থাকে না, যাতে করে আমরা টাকা খরচ করার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারব।

অথবা আপনার আর্থিক অবস্থা যদি ভালো হয়ে থাকে, তারপরেও আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমত টেস্ট করার জন্য একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, যাতে কোনো রকমের টাকা খরচ হবে না।

ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম আপনি বেছে নিবেন? ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করতে হয়? সেই সম্পর্কে এই আর্টিকেল আলোচনা করা হবে।

পোস্টের ভিতরে যা থাকছে

ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করতে কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন?

আপনি যদি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে থাকেন, ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম সবচেয়ে বেশি ভালো হবে? তাহলে আপনি বিভিন্ন রকমের সার্চ রেজাল্ট দেখে নিতে পারবেন।

ইন্টারনেটে এরকম কয়েক মিলিওন আর্টিকেল রয়েছে, যে সমস্ত আর্টিকেলে আপনাকে এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হবে কিভাবে আপনি চাইলে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন?

একজন নতুন ব্লগার হিসেবে প্রথমত, ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে কোন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিতে হবে, সেই সম্পর্কেও আপনি কয়েক লক্ষাধিক আর্টিকেল পেয়ে যাবেন।

আর্টিকেলে যে সমস্ত প্ল্যাটফর্মের কথা মেনশন করা হয়েছে, সে সমস্ত প্ল্যাটফর্মের সাথে হয়তো আমার মেনশন কৃত ওয়েবসাইট নাও মিলতে পারে।

তবে আমি এখানে যে প্ল্যাটফর্মের কথা মেনশন করবো, সেই প্লাটফর্মে থেকে আপনি যদি জীবনের প্রথম ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তাহলে একজন নতুন ব্লগার হিসেবে আপনার উপকারে আসবে।

একদম ফ্রিতে আপনার জীবনের প্রথম ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আমার সর্বাধিক রিকমেন্ড হলো Blogger.com নামের এই প্লাটফর্ম। এখান থেকে আপনি একদম বিনামূল্যে আপনার জীবনের প্রথম ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

তাহলে জেনে নেয়া যাক blogger.com এ কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন?

কিভাবে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন?

আপনি যদি একদম ফ্রিতে কোন রকমের টাকা খরচ করা ছাড়া কয়েক মিনিট খরচ করার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলটি কন্টিনিউ করুন।

একদম বিনামূল্যে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে প্রথমত নিম্নলিখিত লিংকে ভিজিট করতে হবে।

Blogger

যখনই আপনি উপরে উল্লেখিত লিংকে ভিজিট করবেন, তখন নিম্নলিখিত স্ক্রীনশটএর মত একটি পেইজ দেখতে পারবেন।

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে Create Your Blog নামের আইকনের উপরে ক্লিক করতে হবে।

ফ্রী ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করবেন? স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিন

যখনই আপনি এই অপশনটিতে ক্লিক করবেন, তখন আপনার জিমেইল এড্রেস এ লগইন করে নিতে হবে। এখানে আপনি যে জিমেইল এড্রেস এবং সেই জিমেইল এড্রেস এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট তৈরি হবে।

এজন্য, এখানে দেয়ার জন্য জিমেইল এড্রেস সিকিউর করে ব্যবহার করবেন। এখানে যে জিমেইল এড্রেস দেবেন, সে জিমেইল এড্রেস এর ব্যাকআপ ইমেইল কিংবা ফোন নাম্বার যুক্ত করে নিবেন।

জিমেইল এড্রেস সিলেক্ট করার কাজ শেষ হয়ে গেলে, এবার এই জিমেইল এড্রেস এখানে লগইন করুন। তাহলে আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করার কাজ অনেকাংশে শেষ হয়ে যাবে।

ফ্রী ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করবেন? স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিন

জিমেইল এড্রেস দেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে এবার আপনাকে ব্লগারে ড্যাশবোর্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। এখান থেকে আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করার আরেকটু কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

যখনই আপনি ব্লগার ড্যাশ বোর্ডে চলে যাবেন, তখন আপনি এখানে তিনডট মেনু দেখতে পারবেন, সেই তিনডট মেনু এর উপরে ক্লিক করুন।

তিন ডট মেনু এর উপরে ক্লিক করার পরে, এবার এখানে একটি অপশন দেখতে পারবেন। আর সেটি হল Create blog.

ফ্রী ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করবেন? স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিন

create blog উপরে ক্লিক করার পরে আবার আপনাকে আপনার ব্লগার ওয়েবসাইটের জন্য একটি নাম নির্বাচন করতে হবে। এখানে এমন একটি নাম দিবেন, যে নামের অনুসারে আপনি আর্টিকেল লিখবেন।

আপনি যদি টেকনোলজি রিলেটেড ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তাহলে টেকনোলজি রিলেটেড যেকোনো একটি নাম এখানে বসিয়ে দিন এবং তারপরে নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।

এবার এখানে আপনার ওয়েবসাইটের একটি এড্রেস দিতে হবে, যে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যে কেউ আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারবে।

আপনাকে অবশ্যই একটি ইউনিক ওয়েবসাইট এড্রেস দিতে হবে, যে ওয়েবসাইট এড্রেস এর মাধ্যমে আপনি চাইলে গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল সহ বিভিন্ন রকমের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।

যেহেতু ব্লগার আপনাকে একদম ফ্রিতে লাইফ টাইম এর জন্য সাবডোমেইন দিবে, এখান থেকে ডোমেইন সিলেক্ট করার পর আপনার ডোমেইন এর শেষের দিকে.Blogspot.com লেখা দেখতে পারেন।

আপনার পছন্দমত একটি ডোমেইন নাম সিলেক্ট করে নেয়ার পরে নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।

যখনই আপনি নেক্সট বাটনে ক্লিক করে দিবেন, তখন আপনার ব্লগ সাইট তৈরি করার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। যা আপনি মাত্র এক মিনিট খরচ করার মাধ্যমে তৈরি করে ফেললেন।

সাইট তৈরি করার পরে আপনি চাইলে এই ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড ঘুরে দেখতে পারেন এবং আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে পারেন।

তবে কোনো রকমের কাস্টমাইজ করা ছাড়াও আপনি চাইলে এই ওয়েবসাইট পুরোদমে ব্যবহার করতে পারবেন এবং এই ওয়েবসাইটে নতুন আর্টিকেল লিখতে পারবেন।

কেন Blogger.com বেছে নিবেন?

Blogger.com ওয়েবসাইট বেছে নেয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে, সে সমস্ত কারণগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিচে মেনশন করা হলো।

আপনি যদি ব্লগার একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তাহলে ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রথমত আপনাকে কোন প্রকার টাকা পয়সা খরচ করতে হবে না।

ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে কোন রকমের হোস্টিং ক্রয় করতে হয় না। গুগল আপনাকে বিনামূল্যে সারা জীবনের জন্য হোস্টিং দিবে।

আপনার ওয়েবসাইট যদি ব্লগারে থাকে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইট একসাথে কয়েক মিলিয়ন ভিজিটর ভিজিট করলে আপনার সাইট ক্রাশ হবে না।

যেখানে ওয়ার্ডপ্রেসে কয়েকশো ভিজিটর একসাথে ভিজিট করলে ওয়েবসাইট ক্রাশ হয়ে যায়।

Blogger.com অনেকগুলো ফ্রি থিম রয়েছে, যে সমস্ত থিম আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও আপনার পছন্দমত প্রিমিয়াম থিম আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

Blogger.com আপনি চাইলে একদম সহজে ব্যবহার করতে পারবেন। একজন নতুন ব্লগার হিসেবে blogger.com আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি রিকমেন্ড।

blogger এ আসার অন্যতম একটি কারণ হলো blogger.com এ আপনি চাইলে খুব সহজেই ওয়েবসাইট মেনটেন্স করতে পারবেন এবং ওয়েবসাইট থেকে খুব বেশি পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন।

ছাড়াও আপনি যদি কাস্টমাইজেশন পছন্দ করে থাকেন, তাহলে blogger.com কাস্টমাইজেশন একদম সহজেই করা যায়। এবং কাস্টমাইজেশন করার ক্ষেত্রে আপনি প্রিমিয়াম জিনিস গুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

উল্লেখিত কারণগুলো ছাড়াও আরো অনেক রকমের কারণ রয়েছে, এসমস্ত কারণে আপনাকে অবশ্যই ব্লগারে চলে আসতে হবে।

কিছু অপ্রিয় সত্য কথা

ব্লগিং জগতে একদম নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে অধিক রিকমেন্ড হবে blogger.com. তবে ব্লগিং করতে করতে যখন আপনি সবকিছু বোঝা শুরু করবেন, তখন আপনি হয়তো blogger.com থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে চলে আসতে চাইবেন।

কারণ blogger.com হয়তো আপনাকে সে রকম কোনো খরচ করতে হয় না, তবুও blogger.com এ কিছু লিমিটেশন রয়েছে।

এছাড়াও blogger.com থেকে আপনি যদি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা আয় করেন, তাহলে আপনাকে গুগল এডসেন্স এর সর্বাধিক কমিশন blogger.com এ দিয়ে দিতে হয়।

ওয়াডপ্রেস এ চলে আসলে আপনি প্লাগিন ব্যবহার করার মাধ্যমে খুব সহজে আপনার ওয়েবসাইট মেনটেইন করতে পারেন এবং আপনার ওয়েবসাইট কাস্টমাইজেশন খুব সহজেই করতে পারেন।

এছাড়া ওয়ার্ডপ্রেস প্রতিনিয়ত আপডেট হয়, যার কারণে ওয়ার্ডপ্রেস যদি আপনি ব্যবহার করেন, তাহলে আপডেটেড থাকতে পারবেন।

তবে উপরে উল্লেখিত কথাগুলো ওই সমস্ত লোকদের জন্য যারা blogger.com পছন্দ করেন না কিংবা blogger.com এ থাকতে চান না। তবে, আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে blogger.com এর কোন বিকল্প নেই।

এছাড়াও আপনি যদি একজন বিগিনার হয়ে থাকেন এবং শুরুতে কিছু টাকা আয় করার পরে অন্য কোন প্লাটফর্মে সেটেল হতে চান, তাহলে blogger.com আপনার জন্য অবশ্যই রিকমেন্ডেড।

কিভাবে একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় এবং ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম সবচেয়ে বেশি ভালো, সেই সম্পর্কে আশা করি জেনে নিতে পেরেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

close
Scroll to Top
Share via
Copy link