পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? জেনে নিন ২ মিনিটে

আমাদের মধ্যে যে বা যারা নতুন পাসপোর্ট করতে চান, সে সমস্ত লোক সকল সবচেয়ে প্রথমে পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এই সম্পর্কে জেনে নিতে চান।

একজন নতুন পাসপোর্ট ব্যবহারকারী হওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? এই সম্পর্কে জেনে নেয়া বাধ্যতামূলক।

যাতে করে , কোনো রকমের ভোগান্তি ছাড়া আপনি আপনার জীবনের প্রথম পাসপোর্ট তৈরি করতে পারেন।

একটি সম্পূর্ণ নতুন পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য কি কি তথ্যাদির প্রয়োজন হতে পারে, সে সম্পর্কে জেনে নিতে হলে এই আর্টিকেলটি দেখে নিতে হবে।

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

পাসপোর্ট করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সমস্ত ইনফরমেশন রয়েছে, সে সমস্ত ইনফরমেশন নাম নিচে মেনশন করা হলো।

  • আপনার যে জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম সনদের ২ কপি ছবি।
  • সদ্যতোলা আপনার দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • পাসপোর্ট এর ফরম এর দুই কপি ছবি। আপনি যখন পাসপোর্ট ফরম ফিলাপ করবেন, তখন আপনাকে দুই কপি পাসপোর্ট ফরম দেয়া হবে সেগুলো ফিলাপ করার পরে জমা দিতে হবে।
  • ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রশিদ।
  • নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট।

একজন নতুন পাসপোর্ট ব্যবহারকারী হিসেবে মূলত আপনাকে উপরে উল্লেখিত ইনফরমেশনগুলো প্রোভাইড করতে হবে।

তাহলে আর দেরি না করে, এখনি জেনে নেয়া যাক এই সমস্ত ইনফরমেশন গুলো সম্পর্কে ডিটেলস আলোচনা।

জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম সনদ

আপনি যে বাংলাদেশের নাগরিক এটা প্রমাণ করার জন্য কিংবা আপনার সত্যতা যাচাই করার জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র কিংবা জন্ম সনদ দিতে করতে হবে।

এখানে দুইটি অপশন রাখার প্রধান কারণ হলো, আপনার কাছে যদি জাতীয় পরিচয়পত্র না থেকে থাকে তাহলে আপনি চাইলে জন্ম সনদ ব্যবহার করার মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করতে পারেন।

এখানে থাকা দুইটি অপশন এর মধ্যে থেকে যে কোন একটি অপশন ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি চাইলে পাসপোর্ট তৈরি করতে পারবেন।

আপনার পরিচয় সত্যায়িত করার জন্য আপনাকে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র কিংবা জন্ম সনদের দুই কপি সত্যায়িত ছবি তাদের কাছে দিতে হবে।

তাহলে আপনি প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে পারবেন।

আপনার দুই কপি ছবি

আপনাকে যাচাই করার জন্য সদ্যতোলা আপনার দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি তাদের কাছে দিতে হবে। মূলত, আপনার পাসপোর্ট এর বিভিন্ন অংশে লাগানো হবে।

যখন আপনি দেশ হতে দেশ দেশান্তরে ভ্রমণ করবেন, তখন আপনাকে সত্যায়িত করার জন্য আপনার ছবিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এখানে একটি বিষয় বলে রাখা ভাল আর সেটি হল, ছবি দেয়ার সময় আপনাকে অবশ্যই রঙিন ছবি দিতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গিন ছবি তাদের কাছে দিতে হবে।

ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রশিদ

এই অপশনটিতে আমাদের অনেকেরই কনফিউশন রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ব্যাংকে কিভাবে টাকা জমা দিবেন কিংবা ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রশিদ কিভাবে পাবেন?

তাহলে আপনাকে একটি বিষয় বলে রাখা ভালো, আপনি যখন নতুন পাসপোর্ট তৈরি করতে চাইবেন, তখন আপনার পছন্দ অনুযায়ী পাসপোর্ট তৈরি করতে একটি নির্দিষ্ট ফি এর প্রয়োজন হবে।

যখন আপনার পাসপোর্ট তৈরি করার সময় ফি এর প্রয়োজন হবে , তখন পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আপনাকে জানিয়ে দিবে আপনি কোন ব্যাংকে কিভাবে টাকা জমা দিবেন।

এবার আপনি যখন আপনার কাঙ্খিত ব্যাংকে গিয়ে টাকা গুলো জমা দিয়ে আসবেন, তখন ব্যাংক কর্তৃক আপনাকে একটি রশিদ দিবে, যে রশিদ অফিসে দিয়ে দিতে হবে।

পাসপোর্ট ফরম

আপনি যদি পাসপোর্ট তৈরী করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই পাসপোর্ট তৈরী করার ফরম ফিলাপ করতে হবে। এখানে আপনার সমস্ত ইনফরমেশন দেয়া থাকবে।

এই ফরম আপনি চাইলে পাসপোর্ট অফিস থেকে নিতে পারবেন। অথবা আপনি চাইলে ই-পাসপোর্ট এর যে ওয়েবসাইট রয়েছে, সে ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরম ডাউনলোড করে নিতে পারেন৷

আপনি যদি পাসপোর্ট ফরম ডাউনলোড করে নিতে চান, তাহলে নিচে থেকে ফরমগুলো ডাউনলোড করে নিন৷

Download

উপরে থেকে ফরম ডাউনলোড করে নিলে, এটি প্রিন্ট করে আপনি চাইলে ফিলাপ করে নিতে পারবেন।

নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট

অনেক ক্ষেত্রে এই অপশনটি অপশনাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এই রিলেটেড ইনফর্মেশন গুলোর মধ্যে এই বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মনে না-ও হতে পারে।

এজন্য আপনাকে নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট তাদের কাছে দেয়া লাগতে পারে বা অবস্থা অনুযায়ী এটি নাও দেয়া লাগতে পারে।

সবচেয়ে ভালো হয় , আপনি আপনার নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রাখুন, যদি তারা প্রয়োজন মনে করে তাহলে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

কিভাবে পাসপোর্ট করতে পারবেন?

আপনি চাইলে ভিন্ন দুটি উপায়ে পাসপোর্ট তৈরি করতে পারেন। এরমধ্য থেকে একটি হলো ই-পাসপোর্ট তৈরি করা অর্থাৎ ঘরে বসেই পাসপোর্ট তৈরি করা। অন্যটি হলো পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করা।

এই দুইটি অপশন এর মধ্যে থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন একটি অপশন ব্যবহার করার মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করতে পারবেন।

আপনি যদি ভোগান্তি কমাতে চান, তাহলে আপনি চাইলে ঘরে বসে ই-পাসপোর্ট, ওয়েবসাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে সহজেই আপনার জীবনের প্রথম পাসপোর্ট তৈরি করতে পারেন।

এখানে একটি বিষয় বলে রাখা ভাল আর সেটি হলো, আপনি যদি এই সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখেন, তাহলে ঘরে বসে পাসপোর্ট তৈরি করার কাজটি আপনার জন্য রিকমেন্ডেড নয়।

কারণ আপনি যদি কোন রকমের ভুল পদক্ষেপ অনুসরণ করেন, তাহলে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র কিংবা জন্ম সনদ ব্যবহার করেছে একটি পাসপোর্ট তৈরি করা যাবে সেটি আপনি আর তৈরি করতে পারবেন না।

তার পাসপোর্ট তৈরি করার সময় আপনি যদি ভুল কোন ইনফরমেশন দিয়ে দেন এবং সেটি দেয়ার পরে সাবমিট করে দেন, তাহলে আপনার পাসপোর্ট ভুল ইনফরমেশন দিয়ে তৈরি হবে।

এক্ষেত্রে পাসপোর্ট এর ইনফরমেশন গুলো পুনরায় এডিট করে সংশোধন করার ক্ষেত্রে আপনাকে বিভিন্ন রকমের জটিলতার মধ্যে পড়তে হবে।

সেজন্য অবশ্যই একজন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে আপনার পাসপোর্ট তৈরি করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান।

তাহলে আজকে এই পর্যন্ত। অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top
Share via
Copy link