মিনিটেই বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম |

যেকোনো কারণে আপনি যদি এটা মনে করেন আপনার বিকাশ একাউন্ট অকার্যকর হয়ে গেছে, আপনি এই একাউন্টা আর ব্যবহার করবেন না, তাহলে আপনি তখন কি করবেন?


আপনি তখন নিশ্চয়ই বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন, আসলেই ব্যাপারটা তাই।


অনেক সময় দেখা যায় আমাদের কাছে মাল্টিপল বিকাশ একাউন্ট থাকার কারণে আমরা চাই, যে বিকাশ একাউন্ট অকার্যকর হয়ে গেছে ওই বিকাশ একাউন্ট পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করে দেয়ার।



বিকাশ একাউন্ট কিভাবে বন্ধ করবেন?

যদি আপনি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চান তাহলে আপনাকে কয়েকটি ছোট প্রসেস পালন করতে হবে, যেই প্রসেসগুলো সহযোগিতায় আপনি খুব সহজেই আপনার লক্ষ্যে পৌঁছবেন।


বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে হলে যে বিষয়গুলো আপনার অবশ্যই প্রয়োজন হবে সেগুলো হলো:

  • আপনার বিকাশ সংক্রান্ত এনআইডি কার্ড।
  • ব্যালেন্স।
  • নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার।
  • 16247 নাম্বারে সহযোগিতা।



তাহলে এবার চলুন একাউন্ট বন্ধ করার জন্য যেসব বিষয়গুলো প্রয়োজন এগুলো ডিটেইলস এ আলোচনা করা যাক এবং এই বিষয়টিকে একেবারে স্পষ্ট করা যাক।


আপনার বিকাশ সংক্রান্ত এনআইডি কার্ড:


এই কথাটি দ্বারা আমি আসলে কি বুঝাতে চেয়েছি? ধরুন আপনি যখন একটি বিকাশ একাউন্ট তৈরি করবেন তখন নিশ্চয়ই ওই বিকাশ একাউন্ট তৈরি করার আগে কোন একটি ডকুমেন্ট দিয়েছিলেন।


সেই ডকুমেন্ট হোক আপনার এনআইডি কার্ড অথবা অন্যকিছু, আপনি মূলত যখন বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জানতে চাইবেন তখন আপনার ওই এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হবে।


এবার আপনার যদি ওই এনআইডি কার্ড না থাকে আপনি অন্য কারো এনআইডি কার্ড দ্বারা একাউন্ট তৈরি করে থাকেন, তাহলে ওই ব্যক্তির এনআইডি কার্ড প্রয়োজন হবে।


তবে অবশ্যই আপনি যে ব্যক্তির এনআইডি কার্ড দিয়ে একাউন্ট খুলেছেন আপনাকে ওই ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে নিকটস্থ কোনো কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে হবে।


ব্যালেন্স:


একাউন্ট বন্ধ করার আগে আপনি নিশ্চয়ই আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত ব্যালেন্স গুলোকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসতে চাইবেন।।


আসলেই তাই, আপনি যখন বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চাইবেন তখন আপনাকে অবশ্যই আপনার বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স গুলোকে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।


তাছাড়া আপনি যদি এর পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনেন তাহলে এখানে ক্ষতির সম্মুখীন আপনি কিন্তু হবেন, তবে এটা বিকাশের একটি রুলস আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্যালেন্স 0 করতে হবে।


নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার:


বিকাশ একাউন্ট আপনি নিজে নিজে বন্ধ করতে পারবেন না, এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার বিশেষজ্ঞ মতামত এর প্রয়োজন হবে এবং অনুযায়ী কাজ করতে হবে।


আপনার নিকটস্থ কোনো কাস্টমার কেয়ার কিংবা আপনি যে এজেন্টের কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন ওই ব্যক্তির সহযোগিতা নিতে পারেন আপনার একাউন্ট বন্ধ করার ক্ষেত্রে।


তবে সবচেয়ে ভালো হয় নিকটস্থ কোনো কাস্টমার কেয়ারে আপনার সমস্ত এনআইডি সংক্রান্ত ডিটেইলস সাথে  নিয়ে তার পরে তাদেরকেই বিষয়গুলো ভালভাবে ক্লিয়ার করা।


16247 নাম্বারে যোগাযোগ:


আপনি নিশ্চয়ই এই সম্পর্কে অবগত আছেন যে বিকাশ এর অফিশিয়াল একটি হেল্পলাইন নাম্বার রয়েছে যেখানে তারা সার্বক্ষণিক আপনাকে সহযোগিতা দিয়ে থাকে।


ঠিক একই রকমভাবে আপনি যদি বিকাশ বন্ধ সংক্রান্ত যেকোন ধরনের সমস্যা সম্মুখীন হন এবং এতে যদি পুরোপুরি ভাবে সলভ করতে চান তাহলে আপনি তাদের সহযোগিতা নিতে পারেন।


তারা আপনাকে বিনামূল্যে দিনে 24 ঘন্টা সপ্তাহের 7 দিন পুরোপুরিভাবে সহযোগিতা করে যাবে, আপনি চাইলে তাদেরকে নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে নিতে পারেন।


তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে আপনার বিকাশ একাউন্ট যে এনআইডি কার্ড দিয়ে তৈরি করেছিলেন ওই এনআইডি কার্ডের ডকুমেন্ট পুরোপুরিভাবে দিতে হবে, এবং একাউন্ট কেন বন্ধ করতে চান সেই সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।




আপনি মূলত উপরোক্ত বিষয়গুলো যখন ভালোভাবে বুঝে নিবেন তখন আপনি খুব সহজেই নিজে থেকে কোন নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করার মাধ্যমে আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে পারবেন।



বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয়?

অনেক সময় দেখা যায় আমাদের ভুল কার্যকলাপের কারণে আমাদের বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটা  পুরোপুরি ভাবে এফেক্ট করে যখন আমাদের বিকাশ একাউন্টে কিছু টাকা থাকে।


বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হওয়ার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে তার মধ্যে থেকে একটি হলো আপনি যদি ভুল পিন নাম্বার দিয়ে কয়েকবার ট্রাই করেন।


অর্থাৎ আপনার পিন নাম্বার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপনার বিকাশ একাউন্ট কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিতে পারে, ফলশ্রুতিতে আপনি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগতে পারেন। 


জেনে নিন, যদি কোন ভুলবশত আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আপনি কিভাবে খুব সহজে আবার পুনরায় বিকাশ একাউন্ট ফিরিয়ে আনবেন।



বিকাশ বন্ধ একাউন্ট ফিরিয়ে আনার উপায়:

আপনি মূলত মাত্র একটি উপায় আপনার বিকাশ একাউন্ট ফিরিয়ে আনতে পারেন আর সেটা হল, আপনার বিকাশ একাউন্ট এর কাস্টমার কেয়ার অর্থাৎ 16247 এই নাম্বারে যোগাযোগ করা।



এতে আপনি যখনই কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিবেন তখন তারা আপনার কাছ থেকে কিছু ডকুমেন্ট নিতে চাইবে যেগুলো দিয়ে দিলেই সফলভাবে আপনার একাউন্টে আবার ওপেন হবে।


আর তারা মূলত আপনার যে ডকুমেন্ট চাইবেন সে ডকুমেন্টগুলো হলো:


▪ আপনার এনআইডি কার্ড নাম্বার।
▪ জন্ম তারিখ।
▪ আপনার নাম।


মূলত এই তিনটি বিষয় আপনি যথাযথভাবে দিতে পারবেন যখন আপনার কাছে আপনার এনআইডি কার্ড অক্ষত থাকবে,  আর ঐ সমস্ত ডকুমেন্ট দিয়ে দিলেই আপনার একাউন্ট আবার পুনরায় একটিভ হয়ে যাবে।


আর এভাবেই মূলত আপনি চাইলে খুব সহজেই আপনার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিকাশ একাউন্ট ফিরিয়ে আনতে পারবেন এবং পুনরায় টাকা লেনদেন করতে পারবেন।

Leave a Comment

three × three =