বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা | বিকাশ এজেন্ট লাভ এবং কমিশন কত?

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা | বিকাশ এজেন্ট লাভ এবং কমিশন কত?

 

আপনি যদি বিকাশের মাধ্যমে ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিকাশের একজন এজেন্ট হতে হবে।
 
আর আপনি যখনই বিকাশের এজেন্ট হয়ে যাবেন তখন আপনার জন্য নির্ধারিত হয়ে যাবে কিছু লাভ কমিশনের হিসাব সমীকরণ।
 
এর মানে হলো আপনি কিছু পরিমাণে টাকা লেনদেনের পরিবর্তে কিছু লাভ কিংবা কমিশনের ভুক্তভোগী হবেন যার পরিমাণ বৃদ্ধি হবে আপনার টাকা গুলো লেনদেনের উপরে।
 
আজকের এই পোস্টটি আমি আলোচনা করব বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা লাভ সমস্ত কমিশন সম্পর্কে যা আপনার কাজে আসবে।
 

বিকাশ এজেন্ট কিভাবে হবে?

 
আপনি যদি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রথমত বিকাশ এজেন্ট হতে হবে। আর বিকাশ এজেন্ট হতে হলে আপনাকে যে ধাপগুলো অতিক্রম করতে হবে তা আমি নিম্নরূপে আলোচনা করছি।
 
বিকাশ এজেন্ট হওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে নিচের দেয়া লিঙ্কে ভিজিট করতে হবে এবং তারপর এখানে দেয়া ফর্ম ভালোভাবে ফিলাপ করতে হবে।
 
 
যখন আপনি এখানে ভিজিট করবেন তখন আপনি এখানে দেয়া প্রত্যেকটি স্টার করা ফরম ফিলাপ করতে হবে। 
 
যিনি এজেন্ট হতে চান তার নাম * : এখানে আপনি যদি এজেন্ট হতে চান তাহলে আপনার নামটি উল্লেখ করতে হবে।
 
তবে মনে রাখবেন এই নামটি অবশ্যই আপনার এনআইডি কার্ড কিংবা যেকোনো ধরনের লাইসেন্স এর সাথে মিল থাকতে হবে।
 
ফটো আইডি নাম্বার (জাতীয় পরিচয় পত্র বা স্মার্ট আইডি/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স) * : এখানে অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের যে নাম্বারটি দেয়া হয়েছিল সেই নাম্বারটি ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।
 
ট্রেড লাইসেন্স নাম্বার * : আপনি যেকোন ধরনের বিজনেস করলে আপনার যে ট্রেড লাইসেন্স নাম্বার দেয়া হয় সেটা নাম্বারটি এখানে দিতে হবে।
 
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম * : এখানে আপনি যে প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করেছেন অথবা আপনার যদি কোন বিজনেস প্রতিষ্ঠান থাকে তাহলে তার নাম সঠিকভাবে বসিয়ে দিতে হবে।
 
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা  * : এই বক্সটিতে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে অবস্থানে রয়েছেন সেই ঠিকানা ভালোভাবে দিতে হবে। 
 
ইমেইল : এখানে অবশ্যই আপনি যে ইমেইলটি সর্বাপেক্ষা বেশি সময় ব্যবহার করেন সেই ইমেইল এড্রেস দিতে হবে যার মাধ্যমে আপনি অবশ্যই একটিভ থাকেন এবং কোন মেইল আসলে তা আপনি দেখার মত অবস্থায় থাকেন।
 
Catcha : আপনি মানুষ নাকি রুবট এটা নির্বাচনের জন্য সাধারণত ক্যাপচা দেয়া হয় আর আপনি এখানে যে ক্যাপটছা দেখতে পারবেন তা নিতান্তই সহজ একটি ক্যাপচা।
 
আপনাকে যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ ইত্যাদি করতে হবে যার ফলাফল আপনি নিচের বক্সটিতে বসিয়ে দিবেন। 
 
এবং যখনি ক্যাপচা এর সঠিক উত্তর দেয়া হয়ে যাবে এছাড়া উপরের সমস্ত ইনফরমেশন গুলো আপনি সঠিকভাবে বসিয়ে দিবেন তখন আপনার এজেন্ট একাউন্ট তৈরী করার জন্য ” জমা দিন” এই অপশনটি ক্লিক করতে হবে।
 
বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা | বিকাশ এজেন্ট লাভ এবং কমিশন কত?

 

 
তাহলে বিকাশ অথরিটি টিম আপনার ইনফরমেশনগুলো সত্যতা যাচাই করার পরে আপনার অ্যাপ্লিকেশনটি গ্রহণযোগ্য কিনা তা নির্ধারণ করবে।
 
যদি আপনি সঠিক তথ্য দেন তাহলে কিছু সময়ের মধ্যে আপনার একাউন্ট একটিভ হয়ে যাবে।
 
আর যখনই আপনার একাউন্ট একটিভ হয়ে যাবে তখন আপনাকে অবশ্যই এই বিষয়ে জানতে হবে যে আপনি যদি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে আপনার লাভ কিংবা কমিশন কতটুকু হবে?
 

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা লাভ কমিশন:

 
আপনি যদি এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী হন এবং আপনি যদি বিকাশ অ্যাপস দিয়ে আপনার এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন তাহলে আপনি খুব ভালো পরিমাণের কমিশন পাবেন। 
 
যেটা সাধারনত মোবাইল ফোনের ইউএসডি কোড ডায়াল করে যে কমিশন পাওয়া হয় তার চেয়েও বেশি।
 
এক্ষেত্রে আপনি যদি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি এন্ড্রয়েড ফোন থাকতে হবে।
 
যদি আপনি ভালো ধরনের কমিশনের সহায়তায় কিংবা লাভের সহায়তায় বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতে চান।
 
আপনি যখনই বিকাশের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপসটি ডাউনলোড করে নিবেন তখন আপনাকে আপনার সমস্ত ইনফরমেশন গুলো দিয়ে লগইন করে নিতে হবে।
 
তারপরে আপনি এখান থেকে খুব ভালো পরিমাণ এর সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
 

ইউএসডি কোড ডায়াল করে বিকাশ এজেন্ট কমিশন: 

 
আপনি যদি আপনার বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা ইউএসডি কোড অর্থাৎ আপনার যেকোনো ধরনের একটি ফোনের ডায়াল প্যাড থেকে *247# ডায়াল করার মাধ্যমে সম্পাদন করেন তাহলে আপনি এখান থেকে প্রতি 1000 টাকায় লাভ করতে পারবেন 4.10 টাকা।
 
যা আপনি বিকাশ এর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস রয়েছে তার থেকে কম পরিমাণে পাবেন।
 

বিকাশ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস থেকে এজেন্ট ব্যবসার কমিশন

 
আপনি যদি বিকাশ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করেন তাহলে আপনি আপনার যে ডায়াল প্যাড থেকে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতেন তার থেকেও কিছু কমিশন বেশি পাবেন। 
 
হিসাবটা এরকম যে আপনি যদি বিকাশ অ্যাপস থেকে এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে প্রতি 1000 টাকায় কমিশন পাবেন 4.40 টাকা যা পূর্বের চেয়ে প্রায় .40 টাকার বেশি। 
 
তাই আপনি যদি এজেন্ট ব্যবসার মাধ্যমে কাউকে টাকা পরিশোধ করতে চান তাহলে আপনি অবশ্যই বিকাশ এপস টি ব্যবহার করবেন। 
 
কারণ এতে আপনি খুব বেশি পরিমাণে সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন এবং এতে আপনার কমিশন এর হার অনেক বেড়ে যাবে।
 
এছাড়া এখন স্বল্পপরিসরে জেনে নিন আপনি যদি এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে আপনার প্রত্যেকটি এজেন্ট ব্যবসার কিছু পরিমাণে টাকা আপনার ক্যাশ ইন করার পরিবর্তে আপনি কত টাকা করে কমিশন পাবেন 
 

USSD কোড ডায়াল করে ক্যাশ ইন লাভ

 
আপনি যদি শুধুমাত্র ইউএসডি কোড অর্থাৎ *247# ডায়েল করে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে আপনি প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ ইন করার পরিবর্তে লাভ করতে পারবেন 4.10 টাকা।
 
এছাড়াও আপনি যদি প্রতি 10 হাজার টাকা আপনার এজেন্ট ব্যবসার মধ্যে ক্যাশ ইন করেন তাহলে আপনি এখান থেকে কমিশন পাবেন প্রায় 41 টাকার মতো।
 
এর হিসাব টা কতটুকু বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি এখান থেকে ক্যাশ ইন এর পরিমাণ কতটুকু বেশি পাবেন তা নির্ধারণ হবে আপনার টাকা ক্যাশ ইন করার উপর।
 

বিকাশ অ্যাপ দিয়ে ক্যাশ ইন

 
আপনি যদি ডায়াল প্যাড দিয়ে এজেন্ট ব্যবসা করা ছাড়া বিকাশ এপস দিয়ে এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে আপনি প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ ইন করার সময় অধিক হারে মুনাফা পাবেন।
 
বিষয়টা এরকম যে আপনি যদি প্রতি হাজার টাকা আপনার বিকাশ এপস এর মাধ্যমে ক্যাশ ইন করেন তাহলে আপনি কমিশন পাবেন 4.40 টাকা।
 
এছাড়াও আপনি যদি প্রতি 10 হাজার টাকা আপনার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দিয়ে ক্যাশ ইন করেন তাহলে কমিশন পাবেন 44 টাকা, যা ইউ এস ডি কোড এর মাধ্যমে ব্যবসা করার চেয়ে প্রায় 0.4 শতাংশ বেশি।
 
আপনি নিশ্চয়ই এই সম্পর্কে জেনে নিয়েছেন যে আপনি যদি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে আপনার লাভ বা কমিশন কতটুকু বৃদ্ধি পাবে।
 
তবে এক্ষেত্রে আপনি এই সম্পর্কে অবগত হয়ে গেছেন যে আপনি যদি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে আপনার ইউএসডি কোড ডায়াল করে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার চেয়েও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস অ্যাপস দিয়ে এজেন্ট ব্যবসা করতে বেশি আপনি লাভবান হবেন।
 
তাই অবশ্যই বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার আগে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনে বিকাশের অফিশিয়াল অ্যাপস টি ডাউনলোড করে নিন এবং তারপর এই অ্যাপসটিতে লগইন করার পরে বেশি পরিমাণে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করুন।
 

এজেন্ট ব্যবসা এর সর্তকতা

 
আপনি যদি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে নয়তো আপনার ব্যবসায়ের মূল অন্যদিকে ঘুরিয়ে যাবে।
 
▪ প্রতারক চক্র থেকে দূরে থাকবেন।
▪ প্রয়োজনে প্রতি সপ্তাহে একবার করে আপনার পিন নাম্বার পরিবর্তন করবেন।
▪  আপনার রেজিস্টার খাতা দূরে রাখুন।
▪ পিন নাম্বার কখনো গ্রাহকের সামনে তুলবেন না।
▪ প্রতারক চক্রের কল কিংবা যেকোনো ধরনের ভুয়া ইনফর্মেশন থেকে দূরে থাকুন।
 
মূলত আপনি যদি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে কারণ আপনার একটিমাত্র মূল আপনার ব্যবসায়ের সারা জীবনের লাভ শেষ করে দিতে পারে।

Leave a Comment

five × 4 =